রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, রাতের আঁধারে মাটি খেকোরা ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গভীর রাতে ফসলি জমিতে ভ্যেকু দিয়ে তুলছে মাটি। প্রশাসন যেন তাঁদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একাধিক স্থানে চলছে এসব মাটির লুটের তান্ডব। তবে এসব ঘটনায় পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই।
সরেজমিনে কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশ আইন অমান্য করে ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের ভূরাখালীতে দেদারছে কৃষি জমির টপ সয়েল কাটছে মাটিখেকোরা। জমির উপরিভাগের মাটি কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামে পুরাতন পুকুর সংস্কার কাজ শুরু নামে রাতে অন্ধকারে চলছে মাটি বিক্রি ।

কৃষিবিদ প্রদীপ সরকারের মতে, জমির উপরিভাগের চার থেকে ছয় ইঞ্চি গভীরের মাটিতেই মূল পুষ্টিগুণ থাকে। মাটির এই স্তর কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও কাঙ্খিত ফলন পাচ্ছে না কৃষকরা।
ভুরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছেই দুইটি স্থানে কৃষি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। চারদিকে সবুজের মাঝে ভ্যেকু বসিয়ে মাটি কাটার ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে পাশবর্তী কৃষি জমি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কৃষিজমি থেকে খননযন্ত্রের সাহায্যে মাটি উত্তোলন চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে বলেও কোনো লাভ হয় না। তাঁরা এসে অভিযান করে চলে গেলে কয়েকদিন পর আবারও এসব কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এসব মাটি দস্যুরা। ফসলের সবুজ মাঠকে তারা নিমিষেই গভীর কুপে পরিণত করছে।
স্থানীয় কৃষক আবজাল হোসেন বলেন, লিটন নামে এক মাটিখেকো ফসলি জমির মাটি কাটছে। মাটি খেকোরা কারো কথা চিন্তা করেন না। দেখেন যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে পাশের জমিগুলো ভেঙ্গে পড়বে। বারবার নিষেধ করার পরও কর্ণপাত করছে না। জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করছে। এসময় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
যন্ত্রাইল এলাকার সেন্টু মিয়া বলেন, এসব মাটিগুলো সাধারণত ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বসতবাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে। শনিবার গভীর রাতেও চন্দ্রখোলা চকে ভ্যেকু মেশিন দিয়ে অবাধে মাটি তুলেছে একটি চক্র।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই এক যুগে রাতে মাটি কাটছে একটি চক্র। এর মধ্যে প্রশাসন ৪টি অভিযান পরিচালনা করেছে। তারপরও থামছে না তারা। বেশীরভাগ কৈলাইল, চুড়াইন, শোল্লা বাহ্রা, শিকারীপাড়া, নয়নশ্রী ও বান্দুরায় ফসলি জমিতে মাটি কাটা হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, কাউকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাতের আধারে চুরি করে এরা মাটি কাটছে । গত কয়েক দিনে ধরে অভিযান অব্যাহত আছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৫জনকে সাজা ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করাও হয়েছে।